আদৌ মেট্রোরেল কি সমস্যার সমাধান করবে?

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ডিজিটাল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ সরকার।
এর জন্য একের পর এক প্রোজেক্ট হাতে নিয়েছে সরকার।
মেট্রোরেল তার মধ্যে অন্যতম। প্রোজেক্টের নাম-“Dhaka Mass Rapid Transit Development”
এর আগে যানজট নিরসনে সরকার একের পর এক ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে।এর অনেকগুলো এখনো নির্মাণাধীন!! বেশিরভাগই যানজট নিরসনে ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে।
ফ্লাইওভার শুধু নির্মাণই হয়েছে,এটি নির্মাণের সঠিক পদ্ধতি বা নিয়মাবলি মানা হয়নি বলেই এই দূর্দশা।মগবাজার এর উপর দিয়ে আসা ফ্লাইওভারে রীতিমত যানজট লেগেই থাকে। বিশেষ করে ফ্লাইওভার ব্যবহার করে উড়ে আসা গাড়ি গুলো এসে যখন বাংলামোটর এলাকায় নামে তখন বিশাল জ্যামের সৃষ্টি হচ্ছে।
বর্তমানে ঢাকার রাস্তায় চলা গাড়িগুলোর গড় গতিবেগ ঘন্টায় ৫ কিলোমিটার। যা মানুষের হাটার থেকেও ধীরগতির। ঢাকার কর্মজীবী মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যয় করছে গাড়িতে বসে। এতে জাতীয় ভাবে বিশাল ক্ষতি হচ্ছে ক্রমাগত।
অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে রস্তায় যা অর্থনীতিতে খারাপ প্রভাব ফেলছে,সাথে জ্বালানীর ব্যয় বাড়ছে।
যানজট নিরসনের জন্য প্রথমে করণীয় বাসের রুট গুলোকে ঠিক করা এবং ট্রাফিক এর নিয়ম কানুন মানতে বাধ্য করা। রাজধানী শহরে ট্রাফিকের এই করুণ পরিনতির কারণেই যানজট বেড়ে চলছে।
রাজধানীতে ট্রাফিক এর নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই বাস,ট্রাক,প্রাইভেটকার গুলো চলছে।ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সরঞ্জামের অভাব নতুন কিছু নয়।
সিগনালের লাল সবুজ হলুদ কোনো বাতির ব্যবহার চোখে পরে না।বলতে গেলে সবই অচল অবস্থায় পরে রয়েছে।ট্রাফিক পুলিশ যখন যেভাবে পারছে কাজ করে যাচ্ছে।
সরকার এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত খামখেয়ালি করে যাচ্ছে।ট্রাফিক পুলিশের জন্য উন্নত সরঞ্জামের ব্যাবস্থা না করে একের পর এক ফ্লাইওভার নির্মাণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।
ট্রাফিক সরঞ্জামের অভাবে ট্রাফিক পুলিশ আন্দাজের উপর কাজ করছে,এতে করে দেখা যাচ্ছে কখনো কখনো গাড়িগুলোকে সিগ্ন্যালে এসে ৩০-৪০ মিনিট আটকা পরতে হচ্ছে।এতে করে বিশাল জ্যামের সৃষ্টি হচ্ছে।
রাজধানীর যানজট নিরসনের জন্যে নিয়মের অধীনে এনে সু শৃঙ্খল ভাবে এই সমস্যা সমাধান করতে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মনে করি।
সরকার এসব প্রাথমিক কাজ করার প্রতি আগ্রহ না দেখিয়ে ফ্লাইওভারের দিকে ছুটে চরম মূর্খতার কাজ করেছে তা সুস্পষ্ট।
Mass Rapid Transit Development এর মাধ্যমে সরকার স্বপ্ন দেখছে রাজধানীকে সচল করে তোলার।এর জন্য বিপুল পরিমাণের অর্থ[২২ হাজার কোটি] লগ্নি করেছে সরকার।পদ্মা সেতুর পর এটিকেই বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রোজেক্ট বলে ধরা হচ্ছে।
“যদিও এর জন্য জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি(জাইকা)’র প্রকল্প ঋণ ৭৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ২৫ শতাংশ।” [উইকিপিডিয়া]
মেট্রোরেল এখন পর্যন্ত ইতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে।তবে এর কাজ ত্রুটিপূর্ণ হলে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে দেশবাসীকে। অন্যান্য দেশের জনবহুল শহরে মেট্রোরেল সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাই আমাদের ক্ষেত্রেও তাই হবে বলে আশা করা যায়। ২০১৯ সালের মধ্যেই প্রথম রুটটি চালু হবে বলে বলা হচ্ছে এখন পর্যন্ত।
ঘন্টায় প্রায় ৬০ হাজার যাত্রীকে দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা দেবে এই রেল প্রোজেক্ট। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন এই মেট্রোরেল রাজধানীর মাত্র ১১.৫ শতাংশ মানুষকে সুবিধা দেবে।এই অল্প সংখ্যক লোকের জন্য সরকার খরচ করছে ২৭.৬ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে মাত্র ১ বিলিয়ন টাকা বাসের জন্য খরচ করলে তা রাজধানীর ৪০ শতাংশ মানুষকে সুবিধা দিতে সক্ষম,এই বিষয়টা অবশ্যই ভাবাচ্ছে।
সরকার দেশকে ডিজিটাল করে গড়ে তুলতে গিয়ে যদি একটা মেট্রোরেল এর অভাব মনে করে এই প্রোজেক্ট হাতে নিয়ে থাকে,তবে এটা হবে মূর্খ। বাহিরের দেশের কাছে এমনিতেই অনেক ঋণী আমরা,আবার এই মেট্রোরেল এর জন্য জাপানের জাইকা ৭৫ শতাংশ অর্থের জোগান দিচ্ছে।
তুলনায় গেলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতা জনবহুল একটি শহর।তারাও এই শহরে যানজটে নিরসনে মেট্রোরেল বাস্তবায়ন করেছে।“১৯৮২ সালে কলকাতা মেট্রো চালু হয় যা ভারতের প্রথম মেট্রোরেল তথা এটি এশিয়ার পঞ্চম”
কলকাতার এই মেট্রোরেল বাস্তবায়নে সার্বিক খরচ ১৮২৫ কোটি ভারতীয় রুপি।তবে কলকাতার মেট্রোরেল এখনো নির্মাণাধীন প্রায় ৩৭ বছর থেকে ধীর গতিতে চলছে এর কাজ।
জরিপ বলে ঢাকা মেট্রো দিনে ১০ শতাংশ মানুষকে সুবিধা দিতে পারবে,নন মেট্রো ও মেট্রো মিলিয়ে ৩৩ শতাংশ ট্রিপ কাভার করবে।বাকি ৬৭ শতাংশ জনগণের জন্য সরকার কি আদৌ কোনো চিন্তা করেছে? নাকি তারা এটি বুঝতে অক্ষম যে শুধু মেট্রোরেল দিলে নগরীকে সচল করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।
Advertisements

Bluffers ‘দের Los Angeles [Dhaka]

দুটো প্রধান রাজনৈতিক দল।

প্রধান কর্মকাণ্ড গদি দখল আর গদিচ্যুত করা।এর মাঝে দেশ খানিকটা এগিয়েছে।তার বড়াই করেই দিন পার করা।কাজ করবার ইচ্ছা আমি কোনো দলের মাঝেই দেখি না,শুধু বাতেলা দিচ্ছে।

সরকার আর বিরোধীদল শুধু একে অপরকে দোষ দিয়ে দিন শুরু করে আর শেষ করে।কাজের নামে শুধু টাকা আত্মসাৎ করার পন্থা বের করে।

বিশিষ্টজনদের মুখে ঢাকাকে লস এঞ্জেলস আওড়াতে শোনা যায়।নির্লজ্জের মত তাদের আমলেই এমন আমূল-পরিবর্তন এসেছে বলতে শোনা যায়। আমার যেমন হাসি পায় তেমন রাগও হয়।কিন্তু কিছু করার নেই,কিছু বলার নেই তারা দখলদার বলে।

সরকার উন্নয়ন এর মধ্যে এতটাই ডুবে আছে যে,বহির্বিশ্ব যখন ঢাকাকে বসবাসের অযোগ্য বলছে তখন তার লস এঞ্জেলস এর নাম জপছে।

অবশ্য সে সব লোকের কাছে লস এঞ্জেলস মনে হতেই পারে। এর কারণ তারা যখন ঢাকার রাস্তায় বেরহয় তখন রাস্তা ফাকা করে দেয়া হয়,তাদের জন্য সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়।গাড়িতে লাল বাতি লাগিয়ে দেশের লাল বাতি জ্বালাতে তারা কর্মক্ষেত্রে যায়।

অথচ শুধু মাত্র যাদের পরিশ্রমে দেশ কচ্ছপের গতিতে হলেও এগোচ্ছে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা উন্নতির জোয়ারে (জ্যাম) বসে মানসিক ভাবে কাজ করার ইচ্ছাশক্তি হারাচ্ছে।

নিজের দেশ ছেড়ে অন্যদেশে গিয়ে ঘাম ঝড়িয়ে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে দেশের জনসংখ্যার এক অংশ।অথচ তাদের নিরাপত্তার কথা শুধু বলেই যায় ক্ষমতাধারীরা,বলে যায় তাদের সুযোগ সুবিধার কথা।কাজের বেলায় তাদের টিকিটিও খুজে পাবেন না কেউ।

ঢাকায় মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ।এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে এই জনসংখ্যা হয়ে দাঁড়াবে ২ কোটি ৭৪ লাখে!!(কালের কন্ঠ) বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সময়সীমা দিয়েছে ২০৪১ সাল!! ডিজিটালের সব ছোয়াই তো ঢাকা কেন্দ্রিক,তাহলে আশা করা যায়, বিশ্ববাসী এই প্রথম কোনো ডিজিটাল দেশ দেখতে যাচ্ছে যার রাজধানী জড়বস্তু তে পরিনত হয়েছে।

“ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৫ হাজার আর অন্যদিকে লস এঞ্জেলসে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৯১০ জন”

জনসংখ্যার ঘনত্বের যে ব্যবধান দুই শহরের মধ্যে তারপর ও অন্য কোনো পরিসংখ্যান দেয়ার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করি।

কিছু ❓প্রশ্ন↓

যত উন্নতির ছোয়া সব ঢাকাতেই কেন? কেন প্রতিটা বিভাগে একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই? কেন সব চাকরি ও চাকরির পরীক্ষার জন্য ঢাকায় ছুটতে হয়?সকল মন্ত্রণালয় ঢাকায় কেন?মানুষ কেন ঢাকা মুখী?কবে সরকার ঢাকার বাহিরেও বাংলাদেশের উন্নতি নিয়ে কাজ করবে?

ব্লাফারদের রাজনীতি আর কতদিন চলবে?আমার মনে হয় যত দিন এই দুই দলের শাসন চলবে_

কে দায়ী? আমি তুমি না সে?

আমার রক্তে বাংলাদেশ। আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি কিন্তু আমি মুক্তিযুদ্ধ কে ধারণ করি, লালন করি।এর মাহাত্য আমি বুঝি। “আমি বঙ্গবন্ধু কে মেনে চলি।”
বর্তমানে এই কথাটা একরকম গালির পর্যায়ে চলে গেছে।শুনলেই নাক ছিটকানো ব্যাপার চলে আসে মানুষের মধ্যে,এটা আমাদের দেশের মানুষের জন্য কতটা লজ্জাজনক ব্যাপার তা ভাবতেও ভয় হয়।এর সত্যতা এতটা তিতা যা আমার মত মানুষের কাছে মেনে নেয়া খুব কঠিন।
তবু ঐ মহান ব্যক্তিকে ধারণ করি।

বর্তমান সরকার এই মহান ব্যক্তিকে যেভাবে ব্যবহার করছে তার ফলাফল খুবই খারাপ ও বাজে হবে ভবিষ্যতে।এখনই এর প্রতিক্রিয়া দেখা যায় যদি আপনারা চোখ কান খোলা রাখেন তবে। একজন জাতির জনকের এমন পরণতি যেকোন স্বাধীন দেশের মানুষের কাছে লজ্জাজনক। আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে আমার মনে আছে আমি আমার হাইস্কুল মাঠে গিয়েছিলাম একদিন বিকেলে হাটতে।একই মাঠে প্রাইমারি স্কুলের ভবনও আছে।

আমরা যারা প্রাইমারি স্কুল সম্পর্কে একটু ধারনা রাখি তারা অবশ্যই জানি, স্কুল ভবনের দেয়ালে দেশ বরেণ্য ব্যক্তিদের ছবি ও তাদের পরিচয় দেয়া থাকে।
আমার যতটুকু মনে পড়ে সেদিন আমি দেখেছিলাম একটা বাচ্চা ছেলে জাতির জনকের ছবিতে ক্রমাগত ইট দিয়ে আগাত করে যাচ্ছে,শুধু তাই নয় সে গালিও দিচ্ছে।

আমার সেদিন খুব কষ্ট লেগেছিল এবং ভাবতে বাধ্য করছিল যে তার অর্জিত মর্যাদার এই পরিণামের দায়ভার কে নিবে? কারা নিবে এই লজ্জার ভার?
যারা তাকে যত্রতত্র ব্যবহার করছে শুধু মাত্র নিজেদের গদি ধরে রাখার জন্য….!!